ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সহনাটি ইউনিয়নের পোল্ট্রিপাড়া গ্রামের কৃষক আজিজুল হক প্রতি বছর নিজের জমিতে নানা ধরনের সবজি চাষ করেন। তবে সম্প্রতি ইউটিউবের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে বিটরুট চাষের খবর দেখে তিনি এ বিষয়ে আগ্রহী হন। স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথমবারের মতো নিজের জমিতে বিটরুট চাষ করে তিনি লাভের মুখ দেখেছেন। এখন তার এই সাফল্য দেখে এলাকায় আরও অনেক কৃষক এই সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
ডেস্ক নিউজঃ
উপজেলা ও স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিটরুট একটি বিদেশি সবজি। এটি সালাদ, সবজি ও জুসের জন্য অভিজাত হোটেলগুলোতে চাহিদাসম্পন্ন। বিভিন্ন ওষুধি গুণসম্পন্ন এই সবজিটিকে সুপারফুড হিসেবে পরিচিতি আছে। যদিও শীতকালে উৎপাদন বেশি হয়, এখন প্রায় সব সময়ই বাজারে এই সবজি পাওয়া যায়। ডিসেম্বর মাস বিটরুট চাষের জন্য উপযুক্ত সময়। রোপণের পর প্রায় ৭৫-৮০ দিন সময় লাগে বাজারজাত করার জন্য।
গত বছর উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আজিজুল হক তার জমির ৫ শতাংশে বিটরুট চাষ করেছিলেন। এতে খরচ হয়েছিল ১ হাজার ৪৬০ টাকা, আর বিক্রি থেকে আয় হয়েছিল প্রায় ৩০ হাজার টাকা। প্রথমবারের সফলতায় উৎসাহিত হয়ে চলতি বছর তিনি ১৭ শতাংশ জমিতে বিটরুট চাষ করেছেন। এর মধ্যে ২ শতাংশ জমির উৎপাদিত বিটরুট বিক্রি হয়েছে ১৮ হাজার টাকায়। বাকি ১৫ শতাংশ জমির বিটরুট বিক্রি করে তিনি প্রায় ২ লাখ টাকার আয়ের স্বপ্ন দেখছেন।
কৃষক আজিজুল হক বলেন, ইউটিউবে বিটরুটের চাষাবাদ দেখে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে এই সবজি চাষ করি। ভিনদেশি এই সবজির চাষাবাদের খবর শোনে প্রথম দিকে অনেকেই হাসাহাসি করেছে। পরে সফলতা ও চাহিদা দেখে এখন অনেক কৃষক এই সবজি চাষাবাদের জন্য আমার সাথে যোগাযোগ করছে।
উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, বিটরুটে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, কপারসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। প্রথমদিকে এই সবজি কেউ করতে আগ্রহী ছিল না। আজিজুল হকের সাফল্যে এখন এলাকার কৃষকদেরও মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। তার অনুপ্রেরণায় আশেপাশের অনেক গ্রামের কৃষকও বিটরুট চাষ শুরু করেছেন।
ধোপাজাঙ্গালিয়ার কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিটরুট চাষ অত্যন্ত সহজ এবং খরচও কম। অনেক লাভ হয়। আগে কৃষকরা এটি জানতো না। এখন অনেকেই এই ফসল চাষে আগ্রহী।
উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফার ইয়াসমিন জলি বলেন, এ উপজেলায় প্রথম বিটরুট আবাদ করে বাজিমাত করেছেন কৃষক আজিজুল হক। তার সাফল্য চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এ ফসল অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। আমরাও নিয়মিত তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি।
এম কে