স্থান :

/

/

বাড়ি » গরম ও হামের ঝুঁকিতে শিশুদের ঈদযাত্রা

গরম ও হামের ঝুঁকিতে শিশুদের ঈদযাত্রা

May 25, 2026

ডেস্ক নিউজ:

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা- ঈদ এলেই চিরচেনা এই প্রথা অনুসরণ করে গ্রামের পথ ধরেন অনেক শহরবাসী। ছুটিতে ঘরে যাওয়া আর পাড়াপড়শি ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার আনন্দ কেউ সহজে হাতছাড়া করতে চান না।

তবে এবার ছোট শিশুদের অভিভাবকদের এমন ঈদযাত্রায় বের হওয়া নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, তীব্র গরম ও হামের প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে বাচ্চাদের সুরক্ষার স্বার্থে জনসমাগম এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

আমাদের দেশে ঈদযাত্রার সময় বাস, লঞ্চ কিংবা ট্রেন- সব পরিবহনেই থাকে গাদাগাদি ভিড়। সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা, গাড়ির ছাদে চড়েও মানুষ বাড়ি ফেরে। এমন পরিস্থিতিতে যাতায়াতে চরম ছোঁয়াচে হাম রোগে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া, প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে শিশু হামে আক্রান্ত হলে সেখানে তাৎক্ষণিক সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগও সীমিত। সেই সঙ্গে বর্তমানে চলছে গরমের মৌসুম। ফলে যেসব পরিবারে ছোট বাচ্চা আছে, তাদের এবার সম্ভব হলে ঈদে বাড়ি যাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

৫ বছরের কম বয়সীদের ভ্রমণ না করাই উত্তম

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, চরমভাবাপন্ন বৈরী আবহাওয়ায় ছোট বাচ্চাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বড়দের মতো কাজ করে না। ফলে তারা সহজেই সর্দি-কাশিসহ নানান গরমজনিত রোগে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমানে এমন আবহাওয়ার ওপর দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। যার ফলে কোনো এলাকাই এখন বাচ্চাদের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ নয়। তাই সার্বিক সুরক্ষার স্বার্থে এই ঈদে পাঁচ বছর বা তার কম বয়সী ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ভ্রমণ না করাই উত্তম।

তিনি সতর্ক করেন যে ভ্রমণকালে বা প্রত্যন্ত কোনো স্থানে গিয়ে শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ দেখা দিলে সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে ভালো চিকিৎসার অভাব ঘটতে পারে। সঠিক সময়ে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে হামের নানান জটিলতা থেকে শিশুর জীবনশঙ্কা পর্যন্ত দেখা দিতে পারে। সুতরাং, বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জটিলতা এড়াতে এমন বাচ্চাদের মা-বাবাকে এই সময়ে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকা উচিত।

বাইরে বের হলেই পরতে হবে মাস্ক

এদিকে বাসার বাইরে, গ্রামের বাড়ি বা লোকসমাগমে গেলে শিশুদের মাস্ক পরিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে রোগের সংক্রমণঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। হামে মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ থাকতে পারে।

ঈদের ছুটি ঘিরে শিশুদের অপ্রয়োজনে বাইরে নিয়ে ঘোরাফেরা এবং পার্ক, রেস্তোরাঁ বা জনসমাগমস্থলে না নেওয়ার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক। তবে বিশেষ প্রয়োজনে বাইরে নিয়ে গেলে শিশুদের মাস্ক পরানোসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহর কিংবা গ্রাম- সব জায়গাতেই সবাইকে সমানভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ জানান, কোনো শিশুর সামান্য জ্বর, সর্দি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলেও তা অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসায় ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে এই ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। ছোট শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা চিকিৎসকদেরও গভীরভাবে ব্যথিত করে উল্লেখ করে তিনি শিশুদের সুরক্ষায় পরিবার ও অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেন।

টিকা দিলেও শতভাগ নিশ্চয়তা নেই

শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই নন, স্বাস্থ্যখাতের অভিভাবক হিসেবে স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঈদ সামনে রেখে গণপরিবহনে বাড়তি ভিড় ও অবাধ যাতায়াতে হামের সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

সচিবালয়ে শনিবার (২৩ মে) এক অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ এবং সংস্পর্শ ও শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে যেসব শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বা সম্প্রতি সুস্থ হয়েছে, তাদের ঈদের সময় জনাকীর্ণ স্থান কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে না নেওয়ার জন্য আমি অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

তিনি স্পষ্ট করে জানান, টিকা দিলেই যে রোগ থেকে সুরক্ষার ১০০ শতাংশ নিশ্চয়তা দেওয়া যায় তা নয়। ভাইরাসের তীব্রতা বেশি হলে দু-একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে। তাই এই মুহূর্তে সামাজিক দূরত্ব ও পারস্পরিক সচেতনতাই হলো প্রধান প্রতিরোধ।

হাম পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০৩ জনের প্রাণ গেছে। একই সময়ে সন্দেহভাজন হামে প্রাণহানির সংখ্যা ৪৪২। এছাড়া, একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে আট হাজার ৬২২ জন এবং সন্দেহভাজন হামে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৮১৩। উল্লেখিত সময়ে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৫০ হাজার ৫৫৮ জনকে এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৪৬ হাজার ২১৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৫০ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এছাড়া, বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেটে তিন এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে দুজন করে মৃত্যুবরণ করেছে। সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ১৭৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এরপর ৮০ জন মারা গেছে রাজশাহীতে। সেই সঙ্গে সিলেটে ৫০, চট্টগ্রামে ৪২, ময়মনসিংহে ৩৭, বরিশালে ৩২, খুলনায় ২১ ও রংপুরে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছে।

বি/ এ

টপিক :

স্থান :

/

/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন