বাড়ি » ৩ দিনের চীন সফরে কী পেলেন ট্রাম্প

৩ দিনের চীন সফরে কী পেলেন ট্রাম্প

May 15, 2026

আর্ন্তজাতিক নিউজ ডেস্ক:

 

চীনে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্র ফিরে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই সফর তার দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সফর শেষে ট্রাম্প কী নিয়ে ফিরলেন সেটিই বোঝার চেষ্টা করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আল জাজিরা।

শুক্রবার (১৫ মে) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইরানের তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন যেন তেহরানের ওপর নিজেদের প্রভাব খাটায়। তার ধারণা ছিল, বেইজিংকে চাপ দিয়ে ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে আনা যেতে পারে। এমনকি হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে পরিচালিত কার্যক্রমেও চীনকে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি মনে করেছিলেন।

গত রাতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান চান বলে তিনি বিশ্বাস করেন।তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেছে। বেইজিংয়ের বক্তব্য, এই যুদ্ধ কখনোই শুরু হওয়া উচিত ছিল না এবং আর সংঘাত নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানে পৌঁছানো দরকার।

চীন সফর শেষে ট্রাম্প আশা করছেন, বেইজিং হয়তো ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা আলোচনায় ভূমিকা রাখবে। তবে বাণিজ্য ইস্যুর মতো এখানেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো লিখিত সমঝোতা নেই, যা থেকে বোঝা যায় চীন সরাসরি মধ্যস্থতায় নামছে।

যদিও এই সফরে ট্রাম্পকে বিশেষ সম্মান দেখিয়েছে চীন। প্রেসিডেন্টের জন্য ছিল ব্যতিক্রমধর্মী আতিথেয়তা। তিনি সফর শেষ করেছেন ঝংনানহাই কমপ্লেক্সে, যা চীনের ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।অত্যন্ত গোপনীয়, রহস্যময় এবং বিশ্বের সবচেয়ে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থাপনাগুলোর একটি এই কম্পাউন্ডে বসবাস করেন শি জিনপিং এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতারা।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বাইরের খুব কম মানুষই সেখানে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং নেদারল্যান্ডসের রাজা।

ট্রাম্পকে সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করানো ছিল চীনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ভবিষ্যৎ সম্পর্কের পরিবেশ তৈরি করতেই এমন আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।চীনের সরকারি সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এই সফরকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরা হলেও বিস্তারিত খুব কমই জানানো হয়েছে।অবশ্য এটিই চীনের স্বাভাবিক কূটনৈতিক ধরন। শি জিনপিং সাধারণত খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেন না।

বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলা। সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও বৈরিতা কমিয়ে আগামী তিন বছরের জন্য একটি নতুন কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করেছে চীন।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য তদারকির জন্য একটি বোর্ড অব ট্রেড গঠনের বিষয়েও আলোচনা করেছে।তবে এ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তা সত্ত্বেও, ট্রাম্প মনে করছেন তিনি এই সফরে নিজের অনেক লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছেন।তিনি চীনের কাছে আরও বিমান বিক্রির বিষয়টি জোর দিয়ে তুলেছেন। ট্রাম্পের দাবি, বোয়িং দুইশ উড়োজাহাজ সরবরাহের একটি চুক্তি পেতে যাচ্ছে।

এছাড়া আগামী তিন বছরে চীনে আরও বেশি কৃষিপণ্য রপ্তানির আশাও করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব অর্জন ট্রাম্পের জন্য বড় সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। এ কারণেই সফরে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় কোম্পানির প্রতিনিধিরাও ছিলেন। সব মিলিয়ে, চীনে প্রায় চল্লিশ ঘণ্টার সফরকে সফল বলেই মনে করছেন ট্রাম্প।

তবে এটিই দুই নেতার শেষ বৈঠক নয়। চলতি বছরে আরও অন্তত তিনটি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি হবে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে, আর সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সফর।##

এ/জেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন