বাড়ি » আমি পথের কুকুরদের খাইয়ে আনন্দ পাই

আমি পথের কুকুরদের খাইয়ে আনন্দ পাই

January 21, 2026

দিনভর নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন রাজু আহমদ (৪০)। তবে সন্ধ্যা নামলেই দোকান থেকে পাউরুটি বা রুটি কিনে সড়কের পাশ ধরে হাঁটতে থাকেন। এ সময় পথকুকুরদের ডেকে ডেকে এসব খাবার খাওয়ান তিনি। প্রায় দুই বছর ধরে নিয়মিতভাবে কাজটি করে চলেছেন।

রাজু আহমদের বাড়ি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভোগতেরা গ্রামে। তিনি একাধারে গণমাধ্যমকর্মী, কবি ও গায়ক। পাশাপাশি উপজেলা সদরের কামিনীগঞ্জ বাজার বড় মসজিদ সড়ক এলাকায় ইট-বালুর ব্যবসা করেন।

সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় দেখা যায়, নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে সড়কের পাশে রাজু দাঁড়ানো। তাঁর হাতে পাউরুটির একটি প্যাকেট। ওই অবস্থায় তাঁকে ঘিরে রয়েছে চার থেকে পাঁচটি কুকুর। পাউরুটি ছিঁড়ে ছিঁড়ে প্রাণীগুলোকে দিচ্ছিলেন রাজু। তৃপ্তি নিয়ে সেগুলো খাচ্ছিল কুকুরগুলো।

আলাপচারিতায় রাজু বলেন, ‘দুই বছর ধরে প্রায় প্রতিদিনই এ কাজ করছি। সন্ধ্যার পর তেমন কাজ থাকে না। আশপাশের কোনো দোকান বা রেস্তোরাঁ থেকে এসব খাবার কিনে কিছু সময়ের জন্য বেরিয়ে পড়ি।’

কামিনীগঞ্জ বাজারের বড় মসজিদ সড়ক ও ভবানীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ডের কাছে সন্ধ্যার পর কয়েকটি কুকুর দল বেঁধে থাকে। পালাক্রমে দুটি স্থানে গিয়ে সেগুলোকে খাবার খাওয়ান রাজু।

কুকুরের প্রতি ভালোবাসার কারণ জানতে চাইলে রাজু বলেন, ‘একেক মানুষ একেক কাজে আনন্দ পায়। পথকুকুরদের অনেকে ভালোবাসেন না। দেখলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দেন, ঘেন্না করেন। এটা দেখে কষ্ট লাগে। কুকুরদের খাইয়ে আমি বেশ আনন্দ পাই। সামান্য আয়োজন থাকে। এতে বেশি টাকাও খরচ পড়ে না, সময়ও নষ্ট হয় না।’

গত কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহে পথকুকুরগুলো বেশ কষ্ট পোহাচ্ছে জানিয়ে রাজু বলেন, রাতে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে প্রাণীগুলো দলবদ্ধ হয়ে থাকে। সম্প্রতি বড় মসজিদ সড়ক এলাকায় তিনি সড়কের পাশে কিছু খড় বিছিয়ে সেগুলোর ওপর চটের বস্তা পেতে রেখেছিলেন। শীত নিবারণে রাতে কুকুরেরা সেখানে বসে থাকে। তবে পরদিন সকালে একই স্থানে গিয়ে দেখেন, বস্তা বা খড় কিছুই নেই। কে বা কারা রাতের আঁধারে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলেছে। সেখানে পড়ে শুধু ছাই। বিষয়টি দেখে তিনি কষ্ট পেয়েছেন।

টপিক :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন