ডেস্ক নিউজঃ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক অনন্য সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছেন দিনমজুর এনামুল হক। রেললাইন ভাঙা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে লাল কাপড়ের বিকল্প হিসেবে কলার মোচার লাল অংশ ব্যবহার করে সংকেত দেন তিনি। এতে নিশ্চিত দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে পঞ্চগড়গামী একটি আন্তঃনগর ট্রেন এবং এর শত শত যাত্রী।
ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার সকাল সাড়ে ৬টায় ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেললাইনের মধ্যবর্তী পূর্ব চণ্ডীপুর এলাকায়। এনামুল হক (৬৫) ওই গ্রামের মৃত ফজলুল হক সোনারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের তৃতীয় দিন ভোরে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়ে রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় এনামুল লক্ষ্য করেন রেললাইনের প্রায় এক ফুট অংশ ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেন। আশেপাশে কোনো লাল কাপড় না পেয়ে তিনি উপস্থিত বুদ্ধিতে পাশের বাগান থেকে একটি কলার মোচা ছিঁড়ে নেন এবং এর লালচে পাপড়িগুলো একটি লাঠির মাথায় বেঁধে সংকেত হিসেবে লাইনের ওপর দাঁড়িয়ে যান।ঠিক সেই মুহূর্তেই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর `পঞ্চগড় এক্সপ্রেস` ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করছিল। দূর থেকে এনামুলের লাল সংকেত দেখতে পেয়ে ট্রেনের চালক নিরাপদ দূরত্বে ট্রেনটি থামিয়ে দেন।
এর ফলে এক ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। এ সময় এনামুলের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রতিবেশী শাহিনুর পার্বতীপুর রেলওয়ে অফিসে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে রেলওয়ের প্রকৌশলী দল ও শ্রমিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রেনটি পার করার ব্যবস্থা করেন। পরে রেললাইনটি স্থায়ীভাবে মেরামত করা হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ফুলবাড়ী স্টেশন মাস্টার শওকত আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রেললাইন ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই প্রকৌশলী টিম সেখানে পাঠানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসীর বিশেষ করে এনামুল হকের এই সচেতনতার কারণে একটি বড় ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনার জন্য প্রায় আধা ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।
এম কে