বাড়ি » নীলফামারীতে ৭ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৪৩ জন, হাম নিয়ে ভর্তি ৬ শিশু

নীলফামারীতে ৭ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৪৩ জন, হাম নিয়ে ভর্তি ৬ শিশু

April 3, 2026

নীলফামারীতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সাত দিনে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪৩ জন। এ অবস্থায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের।

ডেস্ক নিউজঃ

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত সাত দিনে হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগে আক্তান্ত হয়ে ৮০ শিশুসহ ২৪৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ২১০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং বাকিরা চিকিৎসাধীন। শয্যা সংকট থাকায় অনেক রোগী মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। একইসঙ্গে মৌসুমি জ্বরেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে, যার মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। এতে প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধ সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

এ ছাড়া, হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের আলাদাভাবে আইসোলেশন বিভাগে রেখে শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

জোবায়ের নামে এক শিশুর মা বাবলি বেগম বলেন, আমার সন্তান জ্বর, পাতলা পায়খানা, ঠান্ডা-কাশিতে ভুগছিল। গতকাল সকালে হাসপাতালে ভর্তি করাই। বিকেলের দিকে সারা শরীরে র‍্যাশ ও ফুসকুড়ি উঠেছে। ডাক্তাররা বলেছে এটা হামের উপসর্গ।

আরেক রোগীর মা মনোয়ারা বেগম বলেন, হঠাৎ করে আমার বাচ্চার পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে জানতে পারি সে ডায়রিয়া রোগে আক্তান্ত হয়েছে, চিকিৎসা চলছে।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দেবাশীষ সরকার বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এখন আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং খাবারের আগে হাত ধোয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, ডায়রিয়া ও জ্বর প্রতিরোধে ফুটানো পানি পান, পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে।

এম কে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন