স্থান :

/

/

বাড়ি » হঠাৎ ঝড়ে লন্ডভন্ড যশোরের বিভিন্ন গ্রাম, নিহত ২

হঠাৎ ঝড়ে লন্ডভন্ড যশোরের বিভিন্ন গ্রাম, নিহত ২

April 16, 2026

ডেস্ক নিউজ

টানা দাবদাহে পুড়তে থাকা যশোরে হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখি ঝড়। এতে বিভিন্ন গ্রামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। টানা আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় চলা এই ঝড়ে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন। পাশাপাশি নিহত হয়েছেন এক কৃষক।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের পর আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে এসব গ্রামের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

হাসপাতাল, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে যশোরের তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর আকাশ কালোমেঘে গুমোট আকার ধারণ করে। কিছু সময়ের মধ্যেই শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড় ও বজ্রপাত। বৃহস্পতিবার দুপুরে মনিরামপুর উপজেলার শাহাপুর গ্রামে বাড়ি থেকে মাঠে যাচ্ছিলেন লুৎফর রহমান সরদার। এসময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে চৌগাছার আন্দুলিয়া গ্রামের কৃষক আবু তাহেরের মৃত্যু হয়।

একইভাবে উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা এলাকায় কালবৈশাখি ঝড় তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে। ওই এলাকাসহ ঝাঁপা, হরিহরনগর, রাজগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধে হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, কেশবপুরে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে বিদ্যুতের খুঁটিরও ওপর পড়েছে। ঝড়ে আহত হয়ে ৯ জন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। যাদের মধ্যে ২ জনকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ঝড়ে প্রায় ১৫০ বিঘা জমির ধান হেলে পড়েছে এবং আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলার মূলগ্রাম দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন জানান, এ ধরনের ঝড় অনেকদিন দেখা যায়নি। আমাদের মাদ্রাসার ছাদের উপর গাছ পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে এলাকার কৃষকদের ধান, আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। বিভিন্ন স্থানে গাছপালা ভেঙে পড়ায় কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ জন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা শঙ্কামুক্ত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, ঝড়বৃষ্টিতে যশোরে তেমন ক্ষতি হয়নি। কিছু কিছু জায়গায় বোরো ধান হেলে পড়েছে; সেগুলোতে তেমন ক্ষতির আশঙ্কা দেখছি না। যশোরে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টি ধানের জন্য আশীর্বাদ। তারপরও কোথাও ক্ষয়ক্ষতি হলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জেনারেল ম্যানেজার হাদিউজ্জামান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে মনিরামপুর ও কেশবপুরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে গেছে। অসংখ্য জায়গায় তারের উপর গাছ পড়ে আছে। আমাদের কর্মীরা রাতেও কাজ করছে। তবে সব জায়গায় বিদ্যুৎ লাইন সচল করা সম্ভব হবে না।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। বজ্রপাতে মনিরামপুরে একজন মারা যাওয়ার খবর আছে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; সেটা নিরূপণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

টপিক :

স্থান :

/

/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন