বাড়ি » মায়ের কিডনিতে জীবন ফিরে পেলেন কৃষ্ণ হাজং

মায়ের কিডনিতে জীবন ফিরে পেলেন কৃষ্ণ হাজং

March 26, 2026

ডেক্স নিউজ :‘মানুষ মানুষের জন্য-জীবন জীবনের জন্য’ এই কথাটি যেন আজ সত্যিতে রূপ নিল। মায়ের দেওয়া কিডনিতেই জীবন ফিরে পেয়েছে ছেলে কৃষ্ণ হাজং। কিডনি প্রতিস্থাপনসহ সামগ্রিক চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সন্তানের জীবন বাঁচাতে এক মায়ের নিজের কিডনি দানের মতো সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ, অন্যদিকে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের মতো জনপ্রতিনিধির নিঃস্বার্থ আর্থিক ও মানসিক সহায়তায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার এক আদিবাসী যুবক কৃষ্ণ হাজং।

বুধবার (২৫ মার্চ) দীর্ঘ চিকিৎসার পর সফল কিডনি প্রতিস্থাপন শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন কৃষ্ণ হাজং।

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণ হাজং ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বাবা, মা, স্ত্রী ও এক কন্যাকে নিয়ে ছিল তার অভাবের সংসার। হঠাৎ করেই জানতে পারেন তার দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ অকেজো।

প্রথমে ময়মনসিংহ এবং পরে ঢাকায় চিকিৎসা নিতে গিয়ে কৃষ্ণের পরিবার প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েন। অর্থাভাবে ডায়ালাইসিস করাতে না পেরে গত বছরের মে মাসের শেষদিকে একপ্রকার মৃত্যুর প্রহর গুনতে গুনতে বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি।

অসহায় কৃষ্ণের নিভু নিভু জীবনের কথা জানতে পারেন তৎকালীন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং বর্তমানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি নিজ উদ্যোগে অসহায় এই মানুষটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে গত ১৮ জুন থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) কৃষ্ণের নতুন করে চিকিৎসা ও ডায়ালাইসিস শুরু হয়।

চিকিৎসকরা জানান, কৃষ্ণকে বাঁচাতে হলে কিডনি প্রতিস্থাপন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। ছেলের করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারেননি তার গর্ভধারিণী মা। নিজের জীবনের ঝুঁকি তুচ্ছ করে তিনি সিদ্ধান্ত নেন তার একটি কিডনি সন্তানকে দান করবেন।

টানা আট মাস চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত ২ মার্চ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষ্ণ হাজংয়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের দিন ধার্য হয়। দীর্ঘ সময়ের জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পুরো এই প্রক্রিয়ার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন ও সার্বক্ষণিক তদারকি করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

অবশেষে বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান কৃষ্ণ হাজং। আনন্দঘন ও আবেগাপ্লুত মুহূর্তে হাসপাতালে ছুটে যান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় কৃষ্ণের মা দুই হাত তুলে অশ্রুসিক্ত নয়নে মানবিক নেতাকে আশীর্বাদ করেন এবং ডেপুটি স্পিকার অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাদের বিদায় জানান।

মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমি কৃষ্ণ হাজংয়ের পাশে দাঁড়িয়েছি। সবসময় তার চিকিৎসার অগ্রগতির সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছি। সবকিছু ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সবার কাছে অনুরোধ, আসুন আমরা প্রার্থনা করি- কৃষ্ণ হাজং সুস্থ হয়ে যেন তার পরিবারের হাল ধরতে পারেন।

m

টপিক :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন