বাড়ি » সমকামিতার সমালোচনা করায় সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত

সমকামিতার সমালোচনা করায় সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত

May 23, 2026

 

আর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:

সেনেগালের প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে কয়েক মাসের রাজনৈতিক উত্তেজনার পর প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকোকে বরখাস্ত করেছেন এবং সরকার ভেঙে দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সোনকোর পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি সমকামিতা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে, এক আকস্মিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে এ খবর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি ইতোমধ্যে ব্যাপক ঋণের বোঝার মধ্যে থাকায় ঘটনাটি রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়িয়েছে।

সোনকো সম্প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র সমালোচনার জবাবে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো অন্য দেশের ওপর সমকামিতার ‘চাপ’ তৈরি করার চেষ্টা করছে। সমকামিতার অপরাধের জন্য শাস্তি কঠোর করার একটি নতুন আইন সেনেগালে পাশ হওয়ায়, সোনকো এই মন্তব্য করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।

প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তা ওমর সাম্বা অধ্যাদেশটি পড়ে শোনান এবং জানান, প্রেসিডেন্ট ফায়ে সোনকোকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন, যার ফলে সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীরাও পদত্যাগ করেছেন। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। বরখাস্ত হওয়ার পর সোনকো সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আজ রাতে আমি কুয়ের গরগুইয়ে শান্তিতে ঘুমাব।’ কুয়ের গরগুই সোনকোর নিজ এলাকা, যা ডাকারের মধ্যে অবস্থিত। এ সময় তার শত শত সমর্থক তার বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ফায়ে মূলত সোনকোর সমর্থনের ওপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে সোনকোই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে সম্ভাবনাশীল ব্যক্তি ছিলেন, তবে মানহানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেননি। সোনকো এবং ফায়ে একসময় পাস্তেফ পার্টি গঠন করেছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে দুর্নীতি রোধ এবং অর্থনীতি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথম ধাপের ভোটেই তারা জয়লাভ করেন।

সেনেগালের তরুণদের মধ্যে সোনকো ব্যাপক জনপ্রিয়, বিশেষ করে তাঁর প্যান-আফ্রিকান মনোভাব এবং সাবেক ঔপনিবেশিক ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তরুণদের আকৃষ্ট করে। তবে সব ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ফায়ের হাতে থাকায়, তিনি চাইলে অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সরাতে পারেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী দুইজনের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছে। গত মে মাসে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ফায়ে প্রকাশ্যভাবে সোনকোর একক আধিপত্যের সমালোচনা করেন। সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নতুন প্রশাসন বিশাল ঋণের বোঝার মধ্যে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, সেনেগালের ঋণের পরিমাণ মোট জিডিপির ১৩২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা সাব-সাহারা আফ্রিকার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

সম্প্রতি পার্লামেন্টে পাশ হওয়া একটি নতুন বিলের মাধ্যমে ২০২৯ সালের নির্বাচনে সোনকো অংশগ্রহণ করতে পারবে। এই আইনি সংস্কার পূর্বের নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছে, যা মানহানির মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের নির্বাচনে দাঁড়াতে বাধা দিত। ##

এ/জেড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন