বাড়ি » নেত্রকোনার ‘বালিশ মিষ্টি’ পেল জিআই স্বীকৃতি

নেত্রকোনার ‘বালিশ মিষ্টি’ পেল জিআই স্বীকৃতি

October 17, 2025

বিডি নিউজ ডেস্ক:

নেত্রকোনার শতবর্ষের ঐতিহ্যের ধারক ‘বালিশ মিষ্টি’। নেত্রকোনার অনন্য এই মিষ্টি এবার দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সম্প্রতি পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) বালিশ মিষ্টিকে দেশের ৫৮তম জিআই পণ্য হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে।

বালিশ মিষ্টির উৎপত্তি নেত্রকোনা শহরের বারহাট্টা রোড এলাকায়। আনুমানিক ১২০ বছর আগে স্থানীয় মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক গয়ানাথ ঘোষ প্রথম এই মিষ্টি তৈরি করেন। ছোট বালিশের মতো লম্বাটে ও তুলতুলে আকারের জন্যই এর নাম ‘বালিশ মিষ্টি’। সাধারণ সন্দেশ বা রসগোল্লা থেকে একেবারেই ভিন্ন এই মিষ্টি এখন নেত্রকোনার সামাজিক অনুষ্ঠান, উৎসব ও উপহারের অপরিহার্য অংশ। গয়ানাথ ঘোষের তৃতীয় প্রজন্ম এখনো এই মিষ্টি বানানোর ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২০২৩ সালে ডিপিডিটিতে বালিশ মিষ্টির জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হয়। পণ্যের ইতিহাস, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বিস্তৃত প্রতিবেদন দাখিলের পর যাচাই-বাছাই শেষে সম্প্রতি এর স্বীকৃতি মিলল। গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভান্ডারের বর্তমান কর্ণধার ও গয়ানাথ ঘোষের নাতি বাবুল চন্দ্র মোদক বলেন, ‘বালিশ মিষ্টি জিআই পণ্য হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা গর্বিত। দাদার হাতে যে মিষ্টির সূচনা হয়েছিল, তা আজ দেশের গৌরবের প্রতীকে পরিণত হলো।’ তিনি জানান, ১৯৬৫ সাল থেকে তার বাবা নিখিল চন্দ মোদক এবং এখন তৃতীয় প্রজন্মের তিন ভাই মিলে প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে যাচ্ছেন।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, ‘এর আগে বিজয়পুরের সাদামাটি জিআই সনদ পেয়েছিল। এবার বালিশ মিষ্টি যুক্ত হওয়ায় নেত্রকোনাবাসীর গর্ব আরও বেড়ে গেল। আমরা এটিকে জেলার ব্র্যান্ডিং হিসাবে তুলে ধরতে কাজ করব।’ এর আগে ২০২১ সালে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিজয়পুরের সাদামাটি জিআই স্বীকৃতি পেয়েছিল। ২০২৫ সালে এসে বালিশ মিষ্টির এই অর্জন জেলার জন্য আরেকটি ঐতিহাসিক গৌরব যোগ করল। শত বছর আগে গড়ে ওঠা এই মিষ্টি এখন শুধু স্থানীয় স্বাদের সীমায় নয়, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন