- বিডি ডেস্ক নিউজ
যশোরের চৌগাছায় ব্যবসায়ীরা ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন। ভোক্তা ও সাধারণ পর্যায়ে যার মূল্য দাঁড়ায় দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা।
যশোরের চৌগাছায় ব্যবসায়ীরা ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন। ভোক্তা ও সাধারণ পর্যায়ে যার মূল্য দাঁড়ায় দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা।
এক হাজার ৩৪১ টাকার সিলিন্ডার বেড়ে এক হাজার ৭২৮ টাকা হয়েছে এবং বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ২০০ টাকায়। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ছোট-বড় ৩০টি হাট-বাজারে নির্ধারিত নতুন দামের চেয়েও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বেশি দামে বিক্রি করছেন স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা।
রোববার (১২ এপ্রিল) উপজেলার সলুয়া, সিংহঝুলী, পাশাপোল, ধুলিয়ানী, চৌগাছা, পাতিবিলিা, হাকিমপুর, নারায়নপুর, পুড়াপাড়া, মাশিলা ও চাদপাড়া বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, অতি সম্প্রতি ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় এক হাজার ৭২৮ টাকা। গত মাসে এর দাম ছিল এক হাজার ৩৪১ টাকা। তার মানে ১২ কেজিতে দাম বেড়েছিল ৩৮৭ টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৭২৮ টাকায় বিক্রির কথা ছিল।
তবে ভোক্তা ও খুচরা বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিলিন্ডারের কৃত্রিম সঙ্কটের অজুহাতে বেশি দাম রাখা হচ্ছে। এতে প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম সর্বোচ্চ ৮১৩ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখা হচ্ছে।
রোববার বিকেলে উপজেলার চৌগাছা বাজারে খুচরা এক বিক্রেতা বলেন, ‘ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। আমি প্রতি সিলিন্ডারে ৫০ টাকা লাভ রেখে বিক্রি করছি।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরো এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে ডিলাররা ১০ থেকে ১২টি করে সিলিন্ডার দিতেন। এখন তিন থেকে চারটি সিলিন্ডার দেন। দাম সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি নেন। আমরা খুচরা ব্যবসায়ী অল্প লাভে ব্যবসা করি।’
চৌগাছা বাজারের আম্রকানন পাড়ার বাসিন্দা সাংবাদিক এম এ মান্নান বলেন, ‘ক্রেতাদের জিম্মি করে অবৈধভাবে এই গ্যাসের দাম বেশি নিচ্ছেন স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা।’
যশোর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান বলেন, ‘ভোক্তাদের একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘যেকোনো ধরনের মজুতদারি ও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ যদি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এ/ আর