ডেস্ক নিউজঃ
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় গত তিন দিনে তিনটি পৃথক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন সময়ের মধ্যেই এসব দুর্ঘটনায় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও গবাদিপশু পুড়ে বিপুল আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, পর পর তিন দিন উপজেলার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে আগুন লাগার ফলে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বেশ কয়েকটি পরিবার ও ব্যবসায়ী। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতার কারণে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।
প্রথম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার ঈদের দিন রাতে ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া এলাকার টুপারমোড় বাজারে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট এই আগুনে মুহূর্তের মধ্যেই ১০টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা এসব দোকান হারিয়ে ব্যবসায়ীরা এখন দিশেহারা। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ টাকা। এরপর গত রবিবার ভোরে একই ইউনিয়নের খামার বিষ্ণুগঞ্জ এলাকায় একটি বাড়িতে মশার কয়েলের আগুন থেকে দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে তিনটি গরু ও দুটি ছাগল পুড়ে মারা যাওয়ার পাশাপাশি আসবাবপত্র ও একটি মোটরসাইকেল ভস্মীভূত হয়। পরিবারটির ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের পাকেরহাট জিয়া মাঠ সংলগ্ন একটি বসতবাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। এই ঘটনায় ওই বাড়ির আসবাবপত্রসহ যাবতীয় মালামাল পুড়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস।
তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন এবং সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন। খানসামা ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আবুল কালাম আজাদ জানান, তারা যথাসময়ে পৌঁছাতে পারায় আগুন বড় এলাকায় ছড়াতে পারেনি। তিনি জনগণকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও খোলা আগুন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া। তিনি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করেছেন। তিনি বলেন, অসতর্কতার কারণেই অনেক সময় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদের খুশির মুহূর্তে এসব ক্ষয়ক্ষতি সত্যিই বেদনাদায়ক। সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে এ ধরনের দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। বর্তমানে ওই এলাকার মানুষ আগুনের আতঙ্কে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এম কে