বাড়ি » মার্কিন নৌ-অবরোধও দমাতে পারছে না ইরানের তেল রফতানি: মুখ থুবড়ে পড়ার পথে হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা

মার্কিন নৌ-অবরোধও দমাতে পারছে না ইরানের তেল রফতানি: মুখ থুবড়ে পড়ার পথে হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনা

April 13, 2026

আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

মার্কিন নৌ-অবরোধের তোয়াক্কা না করেই তরতরিয়ে বাড়ছে ইরানের তেল রফতানি। ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আর সমুদ্রে কড়া নজরদারি যেন এখন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। সমুদ্রপথে তথ্য যাচাইকারী বিভিন্ন সংস্থা জানাচ্ছে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার মুখেও ইরান তাদের তেল রফতানির গতি আগের চেয়ে তিনগুণ বাড়িয়েছে।

মূলত অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে বিশাল এক ‘ভুতুড়ে জাহাজ বহর’ বা ঘোস্ট ফ্লিট ব্যবহার করে চীনসহ বিভিন্ন দেশে তেল পৌঁছে দিচ্ছে তেহরান।

ইরানের বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সি এবং সাগরপথে জাহাজের আনাগোনা নজরদারি করে এমন তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা বা ডাটা ট্র্যাকিং সাইটগুলোর অন্যতম ড্রপসাইট-এর বরাতে জানা গেছে, গত মার্চ মাসের শেষ নাগাদ ইরানের প্রায় ১৭ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেলই হলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেল।

সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড দাবি করেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর শক্ত অবস্থান সত্ত্বেও এই বিশাল পরিমাণ তেলের চালান আটকে রাখা প্রায় অসম্ভব। তাদের তথ্যমতে, ইরানের তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই যাচ্ছে চীনের বাজারে। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালানো হচ্ছে এমন সব ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে, যেগুলো নিজেদের রেডিও এবং ট্র্যাকিং সিস্টেম বন্ধ করে রাখে। বর্তমানে এমন ১২৯টি ট্যাঙ্কার শনাক্ত করা হয়েছে যেগুলো কোনো ধরনের সিগন্যাল ছাড়াই সমুদ্র চষে বেড়াচ্ছে।

ইরানের পারমাণবিক এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর নজরদারির কাজে নিয়োজিত মার্কিন শক্তিশালী তদারকি সংস্থা ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান বা ইউএএনআই স্যাটেলাইট ছবির সূত্র ধরে জানিয়েছে, গত ৬ এপ্রিল ইরানের চাবাহার বন্দরের কাছে অন্তত ১৫টি ইরানি পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার দেখা গেছে। এছাড়া মালয়েশিয়ার জোহোর উপকূলের কাছে প্রায় ৯৬টি ট্যাঙ্কার নোঙর করে আছে, যেগুলোকে মূলত ‘ঘোস্ট ফ্লিট’ বা ভুতুড়ে বহর বলা হয়। সেখানে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল সরিয়ে নিয়ে অত্যন্ত গোপনে সেগুলো চীনের বন্দরে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

একই চিত্র দেখা যাচ্ছে মালাক্কা প্রণালী এবং দক্ষিণ চীন সাগরেও। অন্যদিকে ওমান সাগরেও ইরানের প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নানামুখী চাপ আর অবরোধের মুখেও ইরান তাদের তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রফতানি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন