বাড়ি » রাস্তা-ড্রেন খুঁড়ে ফেলে রাখেন ঠিকাদার, জনদুর্ভোগ চরমে

রাস্তা-ড্রেন খুঁড়ে ফেলে রাখেন ঠিকাদার, জনদুর্ভোগ চরমে

May 9, 2026

বিডিডেস্ক নিউজ,

বরিশালের গৌরনদী পৌরসভায় জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা খুঁড়ে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার। মাসের পর মাস ভাঙাচোরা সড়কে চলাচলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য পৌরসভা থেকে তিনবার নোটিস দেওয়া হলেও ড্রেন ও রাস্তার কাজ শেষ করছে না। কবে নাগাদ নির্মাণ কাজ শুরু ও শেষ হবে এ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পৌরসভা থেকে ১০ কোটি ৬৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে ১২টি রাস্তা ও ছয়টি ড্রেন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ২৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ কম দরে ৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় মেসার্স এমডি দেলোয়ার হোসেন অ্যান্ড মেসার্স শহিদ ব্রাদার্স (জয়েন্ট ভেঞ্চার) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পায়।

পরবর্তী সময়ে পৌরসভা থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ম্যান্ডেট নিয়ে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন শামীম হোসেন নামের আরেক ঠিকাদার। গত বছরের ১৩ আগস্ট কাজ শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করে সম্প্রতি শেষ করা হয়েছে। এছাড়াও একটি রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের জন্য রাস্তা খুঁড়ে কাজ না করে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন পৌরবাসী। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় রেখে ড্রেন ও রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি অন্যান্য কাজ শুরু করার জন্য পৌর প্রশাসকের পক্ষ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।

পৌরসভার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, থানার মোড় থেকে গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কার্যালয় পর্যন্ত রাস্তার পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণের জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাস্তার একপাশ খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শুরু করা হয়। এরপর থেকে মাত্র এক থেকে দেড়শ ফুট ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। বাকি কাজ না করে ফেলে রাখায় জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

এতে করে রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে মশার উপদ্রব যেমন বেড়েছে, তেমনি বাসাবাড়ির ময়লা পানির দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকার বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে ঠিকাদার শামীম হোসেন বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে একটু ঝামেলা হয়েছিল। দু-একদিনের মধ্যে কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা হবে।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সালেক বলেন, সিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ঠিকাদার গাফিলতি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইব্রাহীম বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন না করে ফেলে রাখায় ইতোমধ্যে ঠিকাদারকে তিনবার নোটিস দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজগুলো বাস্তবায়ন না করলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ,আর

টপিক :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন