বাড়ি » যুদ্ধের খেসারতে খাদের কিনারে ইসরাইলের অর্থনীতি

যুদ্ধের খেসারতে খাদের কিনারে ইসরাইলের অর্থনীতি

April 16, 2026

আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গত তিন বছরের যুদ্ধংদেহী নীতির কারণে ইসরাইল এখন এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত চলমান এই যুদ্ধের আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল বা ১১ হাজার ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরানের সাথে সাম্প্রতিক ৪০ দিনের লড়াইয়ে ইসরাইলের অর্থনীতিতে যে ক্ষত তৈরি করেছে, তার প্রভাব এখন স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাদের সামরিক বাজেট বাড়িয়ে ৪৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই বাজেট মূলত ইরানের সাথে সম্ভাব্য পরবর্তী সংঘাতের প্রস্তুতি এবং বিগত যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে ব্যয় করা হবে।

 ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের বিনা উসকানিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত এই আগ্রাসীযুদ্ধ অভিযানে শুধু সামরিক খাতই নয়, বরং দেশটির বেসামরিক অর্থনীতিও পঙ্গু হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ইসরাইলের কর প্রশাসনের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ২৬ হাজারেরও বেশি ক্ষয়ক্ষতির দাবিনামা জমা পড়েছে। এসব দাবিনামার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের অর্থনৈতিক ওয়েবসাইট ‘ক্যালক্লিস্ট’ বলছে, সব বেসামরিক খরচ মেলালে এই অঙ্ক ২৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যা তেল আবিবের বর্তমান বাজেটের ওপর এক প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।

ইসরাইলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ খোদ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে লেখা এক চিঠিতে সতর্ক করেছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধের সময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩২০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। তেল আবিবের অর্থনীতিকে অসহনীয় দশার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরাইলের ঋণের বোঝা জিডিপির ৭২ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে, ধারণা করছে সংবাদ ইহুদিবাদী মাধ্যম ‘মাআরিভ’।

তেল আবিকের অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযানের সামরিক ও বেসামরিক খরচ অন্তত ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর বাইরেও ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহে ইসরাইলের দৈনিক খরচ হয়েছিল প্রায় ৬০ কোটি ডলার।

এমন এক সঙ্কটময় মুহূর্তেও সামরিক বাহিনী অতিরিক্ত ৪৮০ কোটি ডলারের বাজেট বরাদ্দের দাবি তুলেছে। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে ইসরাইলি মন্ত্রিসভাকে হয় সাধারণ জনগণের ওপর করের বোঝা চাপাতে হবে, নয়তো মেট্রোরেল ও নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলো স্থগিত করতে হবে।

ইসরাইলের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে আভাস দিয়েছে, ২০২৭ সাল নাগাদ করের পরিমাণ ব্যাপকভাবে না বাড়ালে এই বিপুল ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। ফলে নেতানিয়াহুর যুদ্ধের খেসারত হিসেবে আগামী বছরগুলোতে ইসরাইলিদের উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও সেবা খাতের বাজেট কমানোর মতো ভয়াবহ ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন