বিডি ডেস্ক নিউজ,
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুতর আহত এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বুধবার (১৩ মে) ভোরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের নাকাইহাট বন্দরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নিহত ওই যুবকের নাম আনিছুর রহমান। তিনি নাকাইহাট বন্দর এলাকার নুরুল হক মণ্ডলের ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে ফ্লেক্সিলোড ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে নাকাইহাট বন্দরের একটি জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য স্থানীয় সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা মাপার কাজ চলছিল। এ সময় নাকাই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক প্রধান ও তার ভাই আব্দুল মজিদ প্রধানের পক্ষের সাথে সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাহফুজার রহমান মণ্ডলের আত্মীয় শাহ আলমের পক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের লোকজন ইটপাটকেল নিক্ষেপে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি হিরো মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয় এবং একটি বাজাজ ডিসকভার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন— ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সায়েম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক প্রধান, আব্দুল মজিদ প্রধান, মানিক প্রধান, মেহেদুল প্রধানসহ আরো কয়েকজন।
গুরুতর আহতদের রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ বুধবার ভোরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনিছুর রহমান মারা যান।
ঘটনার খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে, গাইবান্ধা জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) রশীদুল বারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংঘর্ষের পর থেকে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ,আর