বিডি নিউজ:
সাবেক জেলা জজ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাসদার হোসেনের আইন পেশার সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। সেই সঙ্গে তার সনদ কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। বার কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় ‘সর্বসম্মতিক্রমে’ এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
মাসদার হোসেন মামলার জন্য খ্যাত এই সাবেক বিচারকের বিরুদ্ধে এক মক্কেলের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বার কাউন্সিলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১২ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে আইনজীবী মাসদার হোসেন কর্তৃক মক্কেলের সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি বার কাউন্সিলের নজরে আসে। প্রকাশিত ওই সংবাদে উল্লেখ করা হয়, আইনজীবী মাসদার হোসেন টাকা আত্মসাতের এই বিষয়টি ইতোমধ্যে স্বীকারও করে নিয়েছেন। ‘পেশাগত অসদাচরণ ও নৈতিক স্খলনের’ এই অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা এবং পেশাগত নৈতিকতার প্রশ্নটি’ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে বার কাউন্সিল জরুরি সভায় বসে। সভায় অভিযোগের প্রাথমিক উপাদান ও প্রামাণিক ভিত্তি বিদ্যমান থাকায় সর্বসম্মতিক্রমে মাসদার হোসেনের সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মাসদার হোসেনের আইনজীবী সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাসদার হোসেন এক লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, একটি মহল বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশ করেছে।
অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেন ১৯৯৫ সালে বিসিএস বিচার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ছিলেন। তিনি এবং তার সহকর্মী বিচারকরা নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করার বিষয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন, যা ‘মাসদার হোসেন মামলা’ নামে পরিচিতি পায়। বিচার বিভাগের চাকরি থেকে অবসরের পর আইন পেশায় ফেরেন মাসদার হোসেন। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।