বাড়ি » তেলের অজুহাতে বেরোবিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

তেলের অজুহাতে বেরোবিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

April 22, 2026

জীবনের চেয়ে কি তেলের দাম বেশি? বুকভরা হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে এভাবেই বলছিলেন ‎বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান সিয়াম। দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের অজুহাতে গত তিনদিন থেকে বন্ধ রয়েছে বেরোবির জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা।

ডেস্ক নিউজঃ

বেরোবি পরিবহন পুলের চরম অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কেউ অসুস্থ হলে জরুরি অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পাওয়া, নির্ধারিত স্টপেজে বা নির্ধারিত স্থানে বাস না থামা, এমনকি টাকার বিনিময়ে যাত্রী তোলা নামায় শিক্ষার্থীদের সময় নষ্ট করার ঘটনাসহ বিভিন্ন অভিযোগ করছে শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) রাতে ওই শিক্ষার্থী বলেন, বেরোবি প্রশাসনের চরম অব্যবস্থাপনা আর অমানবিকতার এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। একজন মুমূর্ষু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য কল দিলে জানানো হয়, অ্যাম্বুলেন্সে তেল নেই। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সেবার এই যদি হয় অবস্থা, তবে প্রশাসনের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি অন্যায্য। শিক্ষার্থীদের জীবনের চেয়ে কি তেলের দাম বেশি।

‎অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পাওয়া মার্কেটিং বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী শাফায়েত শুভ বলেন, এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম উদাসীনতা। অ্যাম্বুলেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ গাড়িতে যদি তেল না থাকে, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। বাসগুলো ঠিকই চলছে, প্রশাসনের অন্যান্য গাড়িও চলছে, তাহলে অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে এই অজুহাত কেন? এটা প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন থেকে যাবে।

‎বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, আমিও এর আগে একদিন জরুরি সেবা অ্যাম্বুলেন্স এর জন্য কল দিয়েছিলাম। কিন্তু ঠিক একই (তেল না থাকা) অজুহাত পেয়েছিলাম।

এ বিষয়ে বেরোবি ‎মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক ডাক্তার এ.এম.এম শাহরিয়ার কবির বলেন, গাড়িকে চলন্ত রাখার সম্পূর্ণ দায়িত্ব পরিবহন পুলের। আমাদের দায়িত্ব পরিচালনা করা। আমার কাছে ফোন আসছে তো আমার কাজ গাড়িটা তাদের দেয়া। অনেক সময় আমরা অ্যাম্বুলেন্স ছাড়াও সার্ভিস দিয়েছি। তেলের জন্য তারা তিনদিন থেকে চেষ্টা করেছে। যে পাম্প থেকে তেল নেওয়া হয়। সেখানেও তিনদিন যাবৎ তেল নেই।

পরিবহন পুলের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক মাসুদ রানা বলেন, অ্যাম্বুলেন্স কে ব্যবহার করবে, না করবে তা সম্পূর্ণভাবে মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্ব। আমাদের নীতিমালায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা মেডিকেল সেন্টারের অধীনেই রয়েছে। বাইরের যাত্রী তোলার বিষয়ে একটি ভিডিও আমার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে আমি ডিপো ম্যানেজারকে চিঠি দিয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট চালককে আজই সাময়িক বরখাস্ত করা হবে। এছাড়া গাড়িগুলো নির্ধারিত স্থানেই থামে বলে জানান তিনি।

এম কে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো দেখুন