আর্ন্তজাদিক ডেস্ক:
নিজের জন্মদিনে বাবার কাছে থেকে স্বর্ণের দুল উপহার পেয়েছিলেন ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বাসিন্দা মাসরাত মুখতার (৫৫)। গত মাসে ঈদুল ফিতরের দিনে তিনি সেটি ত্রাণ তহবিলে দান করেছেন। উদ্দেশ্য- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে বিপর্যস্ত ইরানের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
মাসরাতের মতো কাশ্মীরের অনেক বাসিন্দাই তাদের নগদ অর্থ, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং ব্যক্তিগত সম্পদ দান করেছেন হাজার মাইল দূরের একটি দেশে বসবাসকারীদের জন্য। অনেক পরিবার তাদের তামার বাসনপত্র, গবাদি পশু, বাইসাইকেল এবং সঞ্চিত অর্থের বড় একটি অংশ দান করেছে। এমনকি শিশুরাও তাদের মাটির ব্যাংক ভেঙে জমানো অর্থ দান করছে। দোকানদার ও ব্যবসায়ীরাও পিছিয়ে নেই। তারা দান করেছেন উপার্জনের একটি অংশ।
কাশ্মীরের বুদগাম এলাকার বাসিন্দা মাসরাত মুখতার বলেন, ‘আমরা যা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, তাই দান করি। এটি আমাদেরকে তাদের (ইরানিদের) কাছাকাছি নিয়ে যায়।’ ঐতিহাসিকভাবে কাশ্মীরের ‘লিটল ইরান’ পরিচিতির কথা উল্লেখ করে মাসরাত বলেন, ‘এই পরিচিতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যা করার তাই করা হচ্ছে। এই বন্ধন সময় আর সংঘাতের ঊর্ধ্বে।’
ছয় শতাব্দীরও বেশি পুরনো এই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন বর্তমান যুদ্ধের সময় আরও বেশি প্রকাশ্যে এসেছে। একদিকে এটি ইরানি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, অন্যদিকে অর্থ সংগ্রহের কিছু পদ্ধতি নিয়ে ভারতীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কয়েক কোটির অনুদান
কাশ্মীরে ওঠা এই অনুদানের পরিমাণ রীতিমতো বিস্ময়কর। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, নগদ অর্থ, স্বর্ণ, গয়না, গৃহস্থালি সামগ্রী, গবাদি পশু এবং যানবাহন মিলিয়ে সাহায্যের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি রুপি বা ৬৪ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
শ্রীনগর, বুদগাম, বারামুল্লা এবং কাশ্মীরের উত্তরের জেলাগুলোতে তহবিল সংগ্রহের কেন্দ্রগুলোতে স্বেচ্ছাসেবীরা দিনরাত কাজ করছেন। অনুদানের বড় একটি অংশ জুড়ে আছে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবদান। যেমন- খুচরা পয়সা, শিশুদের মাটির ব্যাংক এবং সাধারণ থালাবাসন। শ্রীনগরের একটি সংগ্রহ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবী সৈয়দ আসিফি জানান, অতি সাধারণ আয়ের মানুষও সাধ্যমতো যা পেরেছেন তাই দান করেছেন।
নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় কাশ্মীরিদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। লিখেছে, ‘এই মহানুভবতা চিরকাল মনে রাখা হবে।’
তবে অনুদানের ব্যাপকতা নিয়ে ভিন্ন এক আশঙ্কায় আছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ) জানিয়েছে, কিছু লোক বাড়ি বাড়ি গিয়ে যেসব অর্থ সংগ্রহ করছে তার একটি অংশ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে যেতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, সংগৃহীত তহবিল যথাযথ স্থানে পৌঁছাতে না পারলে তা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।